বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা জাতীয়

দেশজুড়ে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:১৫ : পূর্বাহ্ণ

দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় মহাখালী স্বাস্থ্য ভবনে ভার্চুয়ালি টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সারাদেশে ১ হাজার ৫ টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এ টিকাদান কর্মসূচি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশে প্রথম কোভিড দেখা দেয় ৮ মার্চ। তখন আমরা রোগী শনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যু হয়। তখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করি। সব কিছু মিলিয়ে আমরা সুফল পায়। অনেক সমালোচনা হয়েছে, সমস্ত সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে আমরা কাজ করতে থাকি। আজকে বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক ভালো আছে।

গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারা দেশে এক হাজার পাঁচটি হাসপাতালে টিকা দিতে প্রস্তুত করা হয়েছে দুই হাজার ৪০০টি টিম। এ ছাড়া টিকা নিতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তিন লাখ ২৮ হাজার মানুষ অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

কোভিড-১৯ মহামারিতে গত ২৭ জানুয়ারি করোনার টিকা জগতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এক নার্সের টিকা গ্রহণের পর ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি বিভিন্ন পেশার মোট ৫৬৭ জন ফ্রন্টলাইনারকে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকা দেওয়া হয়। টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখতে ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত টিকাদান বন্ধ রাখা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রাথমিকভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী এবং গর্ভবতী নারীসহ কিছু মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে না। টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের পরবর্তী ২৮ দিন অর্থাৎ চার সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা গ্রহণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে, টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা হয়নি। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে করোনার টিকা প্রদান।

টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার ৯৫৫টি হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট দুই হাজার ১৯৬টি দল কাজ করছে। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট তিন লাখ ২৮ হাজার ১৩ জন ভ্যাকসিন নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

ঢাকায় ৫০টি হাসপাতালে ৫০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মোট ২০৪টি দল ঢাকার টিকাদান পরিচালনা করবে। করোনার টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় ১৪ হাজার ৬৮৮ জন ভ্যাকসিনেটর এবং ২৯ হাজার ৩৭৬ জন ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৮ জন মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রত্যেককে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হবে।


আরও খবর