fbpx





বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২ | ২১ আশ্বিন, ১৪২৯ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চসিক নির্বাচন স্পেশাল

কোতোয়ালীর ওসি নেজামের অপসারণ চান শাহাদাত, রিটানিং কর্মকর্তার কাছে ৮ দফা দাবি


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২১ জানুয়ারি, ২০২১ ৯:০০ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৫ দিন। এর মধ্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানায় সদ্য যোগ দেওয়া ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের অপসারণও চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর লাভ লেইনে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে আঞ্চলিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে ওসি নেজাম উদ্দিন ও বাকলিয়া থানার এসআই মো. জামানকে প্রত্যাহারের মৌখিক দাবি জানান শাহাদাত।এসময় তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ৮ দফা লিখিত দাবিও পেশ করেন। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছেন শাহাদাত।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী কোতোয়ালী ওসিকে প্রত্যাহার ও ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন। কিছু দাবি আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শনিবার (২৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে আসছেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী এসব দাবির বিষয় সেদিন সিইসিকে অবহিত করবো। এরপর তিনি এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা বাস্তবায়ন করবো।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর কাজীর দেউড়ি নুর আহমদ সড়কের রাবেয়া রহমান লেইনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমনের একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় রাবেয়া লেইনের অদূরে নাসিমন ভবনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাতের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়েও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মোশারুফুল হক চৌধুরী পাভেল বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওসি নেজামের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওসি নেজাম দুদিন আগে থানায় যোগ দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি প্রতিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

এছাড়া বাকলিয়া থানার এসআই জামান ঘরে ঘরে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন শাহাদাত।

শাহাদাত সাংবাদিকদের জানান, ওসি নেজাম ও এসআই জামানকে প্রত্যাহার করা না হলে নির্বাচন বর্জন করতে পারেন বলে জানান তিনি।

শাহাদাতের অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ঘটনার সময় আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। মামলা পুলিশ করেনি। ঘটনার সময় যারা আহত হয়েছেন তারাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনার ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

শাহাদাতের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ভোটার লাইনে বহিরাগতদের ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা, ইভিএমের প্যানেল সুরক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।


আরও খবর