বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চসিক নির্বাচন স্পেশাল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

নগরবাসীর নজরে নেই পাঁচ মেয়রপ্রার্থী!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:০০ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে নগরবাসীর নজরে আছেন কেবল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট দুই মেয়রপ্রার্থী। অথচ তাদের সাথে ভোটের মাঠে আরও পাঁচ মেয়রপ্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু ছোট দলের এই প্রার্থীরা নগরবাসীর নজরে নেই। নৌকা ও ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় ভোটের মাঠ সরগরম হলেও এই পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর কোনো হাঁকডাক নেই।

এই পাঁচ মেয়রপ্রার্থী হলেন-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (প্রতীক-হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (প্রতীক-মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (প্রতীক-চেয়ার), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির আবুল মনজুর (প্রতীক-আম) এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী খোকন চৌধুরী (প্রতীক-হাতি)।

জান্নাতুল ইসলাম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় থাকেন।

এম এ মতিন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব। তিনি ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনেও মেয়রপ্রার্থী ছিলেন। এছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পটিয়া দুটি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি নগরীর চেরাগীপাহাড় এলাকায় থাকেন।

ওয়াহেদ মুরাদ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য কফিল উদ্দিনের ছেলে। গত সংসদ নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-৯ আসনে তিনি নির্বাচন করেছিলেন। মুরাদ নগরীর চকবাজার এলাকায় থাকেন।

আবুল মনজুর ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। তার বাড়ি নগরীর ইপিজেড এলাকায়।

খোকন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি তৃণমূল এনডিএম নামক একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান। তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নিলেও শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় থাকেন।

উল্লেখ্য গত ৮ জানুয়ারি থেকে চসিক নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়।

প্রচারণা শুরুর পর থেকে ভোটের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নৌকা ও ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীর উৎসবমুখর প্রচারণায় এখন সরগরম বন্দরনগরী। কিন্তু ভোটের মাঠে এ পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর তেমন কোনো সাড়া শব্দ নেই। তাদের ভোটের প্রচারণা নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাইকিংয়ের সঙ্গে ব্যানার-পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে নগরীর অলি-গলি। অথচ পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর প্রচারণায় কোনো মাইকিং নেই, ব্যানার-পোস্টারও চোখে পড়ছে না নগরবাসীর।

কী করছেন এই পাঁচ মেয়রপ্রার্থী ?

হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম রাজনীতি সংবাদকে বলেছেন, এ পর্যন্ত তিনি নগরীর ১০টি থানায় সীমিত পরিসরে গণসংযোগ করেছেন। নগরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু একটা রাজনৈতিক দল করি, তাই নির্বাচন করছি। নগরীতে আমাদের ব্যাপক জনসমর্থন আছে। কিন্তু এখন তো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় না। ভোট ডাকাতি হয়। ভোটে জনমত প্রতিফলিত হয় না।

মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এম এ মতিন এ পর্যন্ত নগরীর ১৭টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। নগরীতে ইসলামী ফ্রন্টের অন্তত ৪ হাজার সক্রিয় নেতাকর্মী রয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের যতটুকু সামর্থ আছে তার মধ্যে প্রচারণা করছি। মিডিয়া আমাদের প্রচারণা উপেক্ষা করছে বিধায় নগরবাসী জানতে পারছে না। নগরীতে সুফি-দরবেশ অনুসারী ৬০ শতাংশ সমর্থক রয়েছে আমাদের। কিন্তু সামর্থ না থাকার কারণে ভোটের মাঠে আমরা তাদের সমর্থন পায় না। নির্বাচনে না জিতলেও রাজনৈতিক দল যেহেতু করি তাই প্রার্থী হয়েছি।

চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদ জানিয়েছেন, তিনি এ পর্যন্ত নগরীর ২১টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন। নগরীতে ৯-১০ হাজার ইসলামিক ফ্রন্টের নেতাকর্মী রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিডিয়ায় আমরা প্রচার পাচ্ছি না। মিডিয়ায় প্রচার না হলে মানুষ কীভাবে জানবে? আর নির্বাচনে না জিতলেও মাঠ তো ছেড়ে দিতে পারি না। চেষ্টা তো করতে হবে। একটা রাজনৈতিক দল যেহেতু করি তাই নির্বাচন করার দায়বদ্ধতা রয়েছে।

আম প্রতীকের প্রার্থী আবুল মনজুর এ পর্যন্ত নগরীর ৯টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। নগরীতে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির হাজার খানেক নেতাকর্মী রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা ছোট দলের প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মতো প্রচারণা চালানোর সামর্থ তো আমাদের নেই। কোনো রাজনৈতিক দল তো হঠাৎ করে পরিচিতি পায়নি। নির্বাচন করলে পরিচিতি বাড়ে। জেতার লক্ষ্যে নয়, রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত আছি বিধায় নির্বাচন করছি।

হাতি প্রতীকের প্রার্থী খোকন চৌধুরী দুটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে আর প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরীতে আমার সংগঠনের তেমন নেতাকর্মী নেই। তবে আমার ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। ব্যক্তি ইমেজের কারণে আমি কিছু ভোট পাবো। সবাই তো জেতার জন্য নির্বাচন করে না, নির্বাচন রাজনীতিরই একটা অংশ।


আরও খবর