বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

মাহফিলের মঞ্চে উঠতেই পারলেন না মামুনুল হক


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ৮:৫০ : অপরাহ্ণ

সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে মঞ্চে উঠতে পারেননি হেফাজাতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও খেলাফত মজলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক। প্রশাসনের বাধার মুখে মঞ্চে না উঠেই তাকে ফিরে আসতে হয়।

গতকাল (১২ জানুয়ারি) মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর শাহী ঈদগাহ ময়দানে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বয়ান করার কথা ছিল তার। মাহফিলে তিনি যথাসময়ে উপস্থিত হলেও পুলিশ তাকে মঞ্চে উঠতে দেয়নি। এ সময় মাহফিলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত মামুনুল হককে বাদ দিয়েই মাহফিল শেষ হয়।

জানা যায়, উপজেলার ভাদেশ্বরের শেখপুরে শাহী ঈদগাহে শেখপুর তরুণ সংঘ এই ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটতে পারে এ আশঙ্কায় মামুনুল হককে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান দিতে দেওয়া হয়নি। প্রশানের অনুমতিও ছিলো না এ ওয়াজ মাহফিলের। আয়োজক কমিটি অনুমতি নেয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে সেটা ভেঙে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিমসহ আরও কয়েকজন আলেম। এনিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই সময়ে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন একটা ভাস্কর্য ভাঙচুর করে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্ররা। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা মামুনুল হকের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। এরপর সারাদেশে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জামিয়া দ্বীনিয়া আসআদুল উলুম রামধা মাদরাসার মজলিসে অতিথি করা হয়েছিলো মামুনুল হককে। এছাড়া ২৬ ডিসেম্বর সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ইউপির লামাপাড়া শাহ গরিব এমদাদিয়া মাদ্রাসার ইসলামী মহাসম্মেলনেও তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি এবং স্থানীয় একটি পক্ষের বাধার মুখে তিনি ওই দুই মাহফিলেও বক্তব্য রাখতে পারেননি।


আরও খবর