রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা চসিক নির্বাচন স্পেশাল

চসিক নির্বাচন: সাড়ে ৯ মাস বিরতির পর আবার প্রচার-লড়াই শুরু


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :৮ জানুয়ারি, ২০২১ ৯:০৮ : পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাসের কারণে সাড়ে ৯ মাস বিরতির পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের আজ (৮ জানুয়ারি) থেকে আবার প্রচার-লড়াই শুরু হচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ভোট-যুদ্ধে নামবেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীর সমর্থকদের স্লোগান-মিছিলে উত্তপ্ত থাকবে ভোটের মাঠ।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটির ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এর আগে গত ৯ থেকে ২১ মার্চ ১৩ দিন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আগের তফসিল বহাল রেখে আগামী ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে। তবে ৩০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে চারটি ওয়ার্ডে নির্বাচনের নতুন তফসিল করা হয়।

৭ জন মেয়র, ১৭২ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৫৭ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রয়েছেন ভোটের লড়াইয়ে।

নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বহদ্দারবাড়ি জামে মসজিদ থেকে এবং ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন হযরত আমানত শাহ (রহ.) মাজার থেকে জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচারণা শুরু করবেন।

রেজাউল করিম চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ইতোমধ্যে আমি নগরীর অনেক এলাকায় মতবিনিময় সভা করেছি। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চলতা দেখতে পেয়েছি। মিছিল-সমাবেশ হলে শহর গরম হয়ে যেতো। কিন্তু
করোনার কারণে মিছিল-সমাবেশ না হওয়াতে নির্বাচনকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। তবে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

কিন্তু ডা. শাহাদাত হােসেন বলছেন, দেশে এখন নির্বাচনী ব্যবস্থার যে অবস্থা, তা দেখে ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ নেই।
রাজনীতি সংবাদকে তিনি বলেন, মানুষকে নির্বাচনমুখী করতে হলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ‌

রেজাউল করিম আজ ১ নম্বর পাহাড়তলী, ২ নম্বর জালালাবাদ ও ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে প্রচারণা করবেন। আর ডা. শাহাদাত হোসেন পাথরঘাটা, বকশির হাট, আন্দরকিল্লা ও ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায় প্রচারণা চালাবেন।

আজ থেকে নগরবাসীর চোখে পড়বে দুই মেয়র প্রার্থীর নৌকা, ধানের শীষসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের হরেক রকমের প্রতীকসংবলিত পোস্টার। পাড়া-মহল্লায় দোয়া আর ভোট চেয়ে চষে বেড়াবেন প্রার্থীরা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, আশা করি প্রার্থীরা বিধি মেনে প্রচারণা চালাবেন। কেউ বিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘন্টা আগে প্রচার কাজ বন্ধ করতে হবে। ভোটগ্রহণ হবে ২৭ জানুয়ারি সকাল ৮টায়। এক্ষেত্রে প্রচার বন্ধ করতে হবে ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টায়। প্রার্থীরা প্রচারের জন্য ১৮ দিন সময় পাচ্ছেন।


আরও খবর