বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২ | ২৩ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা জাতীয়

নতুন বছরে করোনামুক্তির প্রত্যাশা


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:১৫ : পূর্বাহ্ণ

মহাকালের আবর্তে বিলীন হতে যাচ্ছে আরো একটি বছর- ২০২০ সাল। এ বছরের সব দুঃখ-বেদনা ভুলে আজ মধ্যরাতে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে বরণ করবে ২০২১ সালকে।

নববর্ষ মানেই সবার মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়া। স্বভাবতই নতুন বছর নিয়ে এবার মানুষের প্রত্যাশা একটি করোনামুক্ত বিশ্ব। তবে, করোনাভাইরাসের টিকা ছাড়াও অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাসহ মানবসম্পদ তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে আগামী বছরের মোটা দাগের চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে, এটাই নতুন বছরে সবার প্রত্যাশা।

সারা পৃথিবীতেই ২০২০ সাল, বিষাদের বছর হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে। অভিশপ্ত এ বছরটিকে বিদায় দেওয়ার জন্য সবাই যেন উন্মুখ হয়েই ছিল। অনেকেই মনে করেন, জীবন ও জীবিকার ওপর আঘাতের যে চিত্র বছরজুড়ে মানুষ দেখেছে, গত ১০০ বছরেও তা দেখা যায়নি। কোভিড-১৯-এর আগের বিশ্ব আর পরের বিশ্বের মধ্যে মিল কোনো দিনই হবে না।

অনেকে এ বছরটিকে একটি বিধ্বংসী বছর বলে উল্লেখ করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারিতে লাখ লাখ মানুষ এরই মধ্যে মারা গেছেন। সেই সঙ্গে কয়েক কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং অর্থনৈতিক খাতে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। ১০০ কোটির বেশি শিশু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্কুলে যেতে পারেনি। বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৪৯৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে সাত হাজার ৫৩১ জন।

চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। পরে করোনা মোকাবিলায় মার্চের ২৬ তারিখ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

তবে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেক দেশের তুলনায় ভালো। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন ব্লুমবার্গ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উপমহাদেশে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে এবং সমগ্র বিশ্বে করোনা মোকাবিলার দক্ষতায় বাংলাদেশ ২০তম স্থানে রয়েছে।

আসলে ২০২০ সাল, সারা পৃথিবীতেই বিষাদের বছর হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে। এ বছর মহামারি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। করোনা ছাড়াও অন্যান্য অসুস্থতায় এ বছর জাতি হারিয়েছে তার প্রবীণ ও বিদগ্ধ গুণীজনদের। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিকদের পাশাপাশি খ্যাতিমান মানুষদের হারিয়েছে দেশ। চলে গেছেন প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। নিভে গেছে অনেক আইনজীবীর জীবন।

তবে, ২০২০ সাল বিপুল প্রাণসংহারের বছর হলেও এর বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রা ও গতিও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ বছর কোভিড- ১৯ এর কারণে বিশ্বে যে পরিমাণ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হয়েছে, অন্য কোনো রোগের ক্ষেত্রে এক বছরে মানুষ এতটা এগোতে পারেনি। সাধারণ সময়ে, একটি টিকা তৈরি করতে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এবার এক বছরের কম সময়ে একাধিক করোনার টিকা তৈরি করা হয়ে গেছে এবং অনেক দেশেও প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে।

মানববিধ্বংসী বছর হিসেবে পরিচিত ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির চমকপ্রদ সাফল্যের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে সিইবিআরের একটি রিপোর্টে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের সর্বশেষ এক রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দেয়। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, আর মাত্র সাত বছর পরেই চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০৩০ সালে ভারত হবে তৃতীয়। আর ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বহু ধাপ উপরে উঠে পৌঁছে যাবে ২৫ নম্বরে। অন্যদিকে ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

সিইবিআর তাদের রিপোর্টে বলছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ভালো। যদিও এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, তা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এটি। তবু এসব পূর্বাভাসে নতুন করে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বাসস


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর