মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ২৪ মাঘ, ১৪২৯ | ১৫ রজব, ১৪৪৪

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

ইথিওপিয়ায় ঘুমন্ত বাসিন্দাদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলা, শতাধিক নিহত


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ৩:০৯ : অপরাহ্ণ

ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিশানগুল-গুমুজ অঞ্চলে ঘুমন্ত বাসিন্দাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটিতে সম্প্রতি ভয়াবহ ধারাবাহিক হামলার এটি হচ্ছে সর্বশেষ ঘটনা। দেশটির মানবাধিকার কমিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালিত ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) মেটেকেল জোনের বুলেন কাউন্টির বেকোজি গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মেতাকাল এলাকায় ঘুমন্ত বাসিন্দাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ এ হামলায় এক শ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ বর্বর হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া কমপক্ষে ৩৬ জনকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালটি হামলা স্থল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কমিশন জানায়, হামলার সময় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য ছিল না। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে বলে জানিয়েছে তারা।

আঞ্চলিক একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা গাশু দুগাজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বেনিশানগুল-গুমুজে হামলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। তারা এখন হামলাকারী ও ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে এর চেয়ে বেশি কিছু জানাননি তিনি।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বুলেন শহরের একজন কৃষক বেলে ওয়াজেরা বলেছেন, তিনি তার বাড়ির কারছে এক ক্ষেতে ৮২ জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, গুলির শব্দ পেয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা জেগে উঠি এবং ‘ধর ধর’ চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই।

ওয়াজেরা রয়টার্সকে বলেন, আমার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমার পেছনের অংশে গুলি লেগেছে এবং আমার বাকি চার সন্তানকে এখন খুঁজে পাচ্ছি না।

ওই শহরের আরেকজন বাসিন্দা হাসেন ইমামা বলেছেন, ভোর ৬টার দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের এলাকায় হানা দেয়। তিনি বিভিন্ন স্থানে ২০ জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। ইমামা বলেন, আমি আমার অস্ত্র হাতে নিই কিন্তু হামলাকারী আমার পেটে গুলি করে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে আবি আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আফ্রিকার দ্বিতীয় জনবহুল দেশটিতে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি আগামী বছরের নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামী বছরের নির্বাচন সামনে রেখে ভূমি, ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে আগে থেকেই ফুঁসতে থাকা উত্তেজনা নতুন করে জ্বলে উঠেছে।

গত ছয় সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর লড়াই চলছে।

এ যুদ্ধে সাড়ে ৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের কারণে অন্যান্য অঞ্চল সেনাশূন্য হওয়ায় নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ওরোমিয়া অঞ্চলেও বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। অরক্ষিত পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে সোমালি বিদ্রোহীদের প্রবেশের হুমকিও রয়েছে।


আরও খবর