সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২ | ২০ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা ইসলামী দল

আহমদ শফিকে হত্যা মামলার নিন্দা ২৮ উলামা-মাশায়েখের

‘হেফাজত জেগে উঠলে ষড়যন্ত্রকারীরা পালানোর জায়গা পাবে না’


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :২০ ডিসেম্বর, ২০২০ ৭:০১ : অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ২৮ উলামা-মাশায়েখ। আজ রোববার (২০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, হেফাজত জেগে উঠলে ষড়যন্ত্রকারীরা পালানোর জায়গা পাবে না।

বিবৃতিতে উলামারা বলেন, আল্লামা শফির স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ছেলে এবং হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার শিক্ষকরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অথচ দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এবং অদৃশ্য শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একটি মহল দেশের শীর্ষ ও জননন্দিত আলেম-উলামার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আমিরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ শীর্ষ মুরব্বিদের শানে বেয়াদবিমূলক বক্তব্য ও আচরণ করে যাচ্ছে। আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এই চিহ্নিত দালাল ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম জেগে উঠলে ষড়যন্ত্রকারীরা পালানোর জায়গা খুঁজে পাবে না।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা শায়েখ আহমদ (হাটহাজারী), আল্লামা নূরুল ইসলাম, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দীন, আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, আল্লামা আবুল কালাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা নোমান ফয়জী (মেখল), আল্লামা নূরুল ইসলাম আদীব, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা হাফেজ নাজমুল হাসান, মুফতি হাবীবুর রহমান (নাজিরহাট), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আরশাদ রহমানী, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা অ্যাডভোকেট আবদুর রাকীব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ মোমেনশাহী, মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, মাওলানা ফয়জুল্লাহ সন্দ্বীপী প্রমুখ।

আহমদ শফিকে হত্যার অভিযোগ এনে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও নাছির উদ্দিন মুনিরসহ সংগঠনের ৩৬ জন নেতার বিরুদ্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। আহমদ শফীর শ্যালক মঈন উদ্দিন এ মামলা দায়ের করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা আহমদ শফিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে তার মুখ থেকে অক্সিজেন কেড়ে নিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালকের পদ থেকে আহমদ শফির ছেলে আনাস মাদানীকে বরখাস্ত করা হয়।

পরের দিনও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্রদের বিক্ষোভ বন্ধ না হওয়ায় পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আহমদ শফি নিজেই তার পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন।

পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আহমদ শফিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আহমদ শফিকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর