রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা জাতীয়

হাসিনা-মোদী ভার্চুয়াল বৈঠক, সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ৩:৩৯ : অপরাহ্ণ

দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো বেগবান করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক এ সহযোগিতা সামনের দিনে আরো এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারত একসাথে করোনা ভ্যাকসিন পাবে বলেও জানান মোদি। ভারত-বাংলাদেশ ভার্চুয়াল সামিটে দুই সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই বৈঠকে যুক্ত হন। আর নরেন্দ্র মোদি তার দপ্তর থেকে যুক্ত হন বৈঠকে।

ভার্চুয়াল বৈঠকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হল‌দিবাড়ীর মধ্যে রেল ক‌রি‌ডোরেরও উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এ পথে ৫৫ বছর পর শুরু হলো ট্রেন চলাচল। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ওই রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সাতটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও ভারত।

এর আগে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের একদিন পরে এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের যে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আমি আপনার সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করছি।

বঙ্গবন্ধুর বার্তা চিরজীবী জানিয়ে শেখ হাসিনাকে তিনি বলেন, এটি আমার জন্য সম্মানের যে আমি আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ওপর ডাক টিকিট অবমুক্ত এবং বাপু-বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল এক্সিবিশন উদ্বোধন করছি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, তার সরকার প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই নীতির এক নম্বর স্তম্ভ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার এই নীতি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমার অগ্রাধিকারে রয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আত্মত্যাগকারী সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান মোদী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী হচ্ছে দাবি করে মোদী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাস মহামারির এসময় ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ, এমনকি ভ্যাকসিন— সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহযোগিতামূলক। দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।’

বৈঠক চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে।দু’দেশের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দেই। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। এছাড়া আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি।

বর্তমান বিশ্ব মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন উল্লেখ করে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, মানবজাতি কীভাবে অজানা শত্রুকে মোকাবিলা করে তার পরীক্ষা নিচ্ছে কভিড-১৯। এ ভাইরাস মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।’ তিনি কভিড মোকাবিলায় ভারতের স্বাস্থ্য প্যাকেজের পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের বিভিন্ন প্যাকেজের প্রশংসা করেন।

মোদী সরকারের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারীর সময় ভারত সুন্দর পদক্ষেপ নিয়েছে। দু’ দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন, তৈরী পোষাকসহ বিভিন্ন খাতে দু’ দেশের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় পার করছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।


আরও খবর