সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২ | ২০ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা আঞ্চলিক রাজনীতি

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি

শাহাদাত-বক্করের হাতেই থাকছে নেতৃত্ব, ঠাঁই পাচ্ছেন পুরনো মুখ এরশাদ উল্লাহ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১:২৯ : অপরাহ্ণ

ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে গঠন করা হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। সদস্য সচিব পদে নতুন মুখ আসার কথা শুনা গেলেও জোরালো লবিং করে আবুল হাশেম বক্করই জায়গা করে নিয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ঠাঁই পাচ্ছেন দীর্ঘ এক যুগ আগে নগর বিএনপি থেকে ছিঁটকে পড়া এরশাদ উল্লাহ। ৫১ কিংবা ৭১ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে।

আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে নগর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ ২৭৫ সদস্যের ঢাউস কমিটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি ও আবুল হাশেম বক্করকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

দলীয় সূত্রের খবর, আহ্বায়ক কমিটির খসড়া তালিকা প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে। তালিকাটি চলতি সপ্তাহে লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে। তিনি তালিকা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে বিএনপির কেন্দ্র থেকে কমিটি প্রকাশ করা হবে।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়ে গেছে। দলের হাইকমান্ড ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে কেন্দ্র থেকে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

গত ৯ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে স্কাইপের মাধ্যমে সাক্ষাত করেছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই সভায় তিনি সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে নগর বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ভার্চুয়াল এ সভায় অংশ নেওয়া নগর বিএনপির ৫২ জন নেতার কাছ থেকে বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে থাকা শাহাদাত-বক্করের পারফরমেন্স ও আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্ব সম্পর্কে মতামত জানতে চেয়েছেন তারেক রহমান।

দলীয় মহল থেকে জানা গেছে, ওই সভায় দুই-একজন ছাড়া বাকি নেতাবৃন্দ ডা. শাহাদাত হোসেনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে আহ্বায়ক পদে তাকে নেতৃত্বে রাখতে মত দেন। তবে নেতাদের অনেকে আবুল হাশেম বক্করের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে তাকে আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে না রাখার পক্ষে মত দেন। নেতাদের অনেকে নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলমকে সদস্য সচিব পদের জন্য যোগ্য মনে করে মত দেন।

দলীয় সূত্রের খবর, ওই সভার পর নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আহ্বায়ক পদে বিকল্প কেউ না থাকায় ডা. শাহাদাত হোসেন ছিলেন নির্ভার। সাংগঠনিক পারফরমেন্সের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শাহাদাতের বিকল্প ভাবেননি।

২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গী হয়ে নগর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন। রাজনীতি সংবাদকে তিনি বলেন, ‘আমি ১১ বছর ধরে নগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছি, জেলও কেটেছি। হয়তো এসব কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে দলের হাইকমান্ড আমার প্রতি আবার আস্থা রেখেছেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহ্বায়ক পদে বিকল্প না খুঁজলেও সদস্য সচিব পদে বিকল্পের কথা চিন্তা করেন। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান আবুল হাশেম বক্কর। তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেন সাইফুল আলম। কিন্তু আবুল হাশেম বক্কর নাছোড়বান্দা! বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতার শরণাপন্ন হন তিনি। এই কেন্দ্রীয় নেতাকে চট্টগ্রামে বিএনপির অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর রাজনীতির নানা সমীকরণ কষে বক্করকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেন। এই নেতা বক্করের প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আস্থা ফিরিয়ে আনেন।

আবুল হাশেম বক্কর রাজনীতি সংবাদের কাছে পদের জন্য তদবির করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি গত তিন বছর দক্ষতার সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছি। এর আগে দলের জন্য আমি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এরপরও আমাকে কেন তদবির করতে হবে ?’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা মোরশেদ খানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন এরশাদ উল্লাহ। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি বিএনপি তাঁর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন। এরশাদ উল্লাহ ২০০৬ সালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ১৯৯৭ সালে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন।

দীর্ঘ এক যুগর পর ৬৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহ আবার বিএনপির সাথে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চাঁন্দগাও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

এরশাদ উল্লাহ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘বহিস্কারের কারণে দীর্ঘ সময় আমি দলের বাইরে ছিলাম। না হয় আজকে আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতাম। ঢাকায় আমার অফিসে রাত-দিন পড়ে থাকতো এমন লোক আজকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হয়েছেন। বর্তমানে কারাগারে আমার আত্মীয় হন তিনি, যিনি রাতারাতি বিএনপির কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্জন করেছেন, তাকে দলে এনেছিলাম আমি। আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। দল যেভাবে মূল্যায়ন করে তা আমি গ্রহণ করবো।’


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর