শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা ইসলামী দল

ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন মামুনুল হকের!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৫ : অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ফেসবুক লাইভে এসে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তিনি তার বক্তব্যে ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে কখনো ক্ষমতা পেলে ইসলামী শরীয়ার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্নের কথাও বলেন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে ‘ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধ, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতির’ ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

ফেসবুক লাইভের বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও অত্যন্ত নিন্দনীয়।

মামুনুল হক বলেন, ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে কেউ কেউ আমার নাম জড়াবার চেষ্টা করছেন। অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, আমার কোনও বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা আমার কোনও কথায় এভাবে আইন হাতে তুলে নেয়ার কথা বলিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনও ব্যক্তি এমনটা কখনও করতে পারে না।

মামুনুল হক তার বক্তব্যে ভাস্কর্য ভাঙচুরের নিন্দা জানালেও ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে তার দ্বিমত অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, সারাদেশের যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের প্রবণতা শুরু হয়েছে। আমরা ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে দ্বিমত করি। কোরআন সুন্নাহর আলোকে তা নাজায়েজ। মরহুম ব্যক্তিদের সম্মান ও মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করি যত্রতত্র ভাস্কর্য নির্মাণ এই ব্যক্তিদের সম্মানহানি হবে। আমার বক্তব্য স্পষ্ট, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ভাস্কর্য রাখা নাজায়েজ ও হারাম-সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যত্রতত্র এই ধরনের ভাস্কর্য করলে মানুষের মল-মূত্র ত্যাগ হবে, সেখানে মাথার উপর বিভিন্ন পাখি মলত্যাগ করবে, নানা ধরণের অসামাজিক কাজের আখড়া জমে যেতে পারে। যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করলে সম্মান বৃদ্ধি হবে না, সম্মানহানির পরিবেশ তৈরি হবে।

ফেসবুক লাইভের বক্তব্যে মামুনুল হক ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে কখনো ক্ষমতা পেলে ইসলামী শরীয়ার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্নের কথাও বললেন। তার কথায়-যদি আল্লাহ কখনও আমাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সক্ষমতা দান করেন তাহলে শরীয়ার আলোকে সকল কার্যক্রম ঢেলে সাজাবো ইনশাআল্লাহ।

দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, স্বাধীনতার মহান নেতা, এই রাষ্ট্রের স্থপতি মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমরা দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে ভালোবাসি, তাকে শ্রদ্ধা করি, তাকে সম্মান জানাই, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।’

ভাস্কর্যের বিরোধিতা নিছক ধর্মীয় কারণে করছি- উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কোনও অভিলাষ নেই। বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে অতিরিক্ত এলার্জি নেই। বঙ্গবন্ধুকে একজন প্রয়াত মুসলিম নেতা হিসেবে স্মরণ করি। তার ভাস্কর্য তৈরি করা হলে আল্লাহর কাছে তিনি লজ্জিত হবেন। আমাদের মহান নেতা পরজগতে আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে পড়ুন, এটা আমরা চাই না। কল্যাণকামিতার জায়গা থেকেই রাষ্ট্র, সরকারকে বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহর কাছে লজ্জিত না করার জন্য অনুরোধ করছি। এই অনুরোধ আমরা করেই যাবো।’

বক্তব্যের শেষে মামুনুল হক বলেন, ‘এই বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধুর সম্মানের ওপর আক্রমণকারী হিসেবে আমাদের সাব্যস্ত করাটা কতটা যৌক্তিক, তা দেশবাসীর কাছে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করবো।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, চরমোনাই পীরের ভাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম এবং হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

ফেসবুক লাইভের বক্তব্যে মামলা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, এই কাজটি করার মূল উদ্দেশ্য হলো চেতনার ব্যবসা করা। তারা বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ইসলামকে যেমন ঘায়েল করতে চায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুর মহান ব্যক্তিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে ইসলামবিরোধী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিলো। হঠাৎ গজিয়ে উঠা ভুঁইফোড় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চও এইরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।


আরও খবর