বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২ | ২৩ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা ইসলামী দল

আমির পদে আলোচনায় মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও জুনায়েদ বাবুনগরী

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব পদ নিয়ে নানা সমীকরণ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৩ নভেম্বর, ২০২০ ৯:২৯ : অপরাহ্ণ

    • আমির পদে আলোচনায় মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও জুনায়েদ বাবুনগরী
    • জুনায়েদ বাবুনগরী আমির হলে খোঁজা হবে নতুন মহাসচিব
    • মহাসচিব পদে তালিকায় আছেন ৬ জন

হেফাজতে ইসলামের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আমির ও মহাসচিব নির্বাচন করা নিয়ে নানা সমীকরণ চলছে। আমির পদে আলোচনায় রয়েছেন হেফাজতের বর্তমান জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে আমির কে হবেন তার ওপর নির্ভর করছে হেফাজতের মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসবে নাকি পুরনো মুখ থাকবে।

৬ বছর পর আগামী রোববার (১৫ নভেম্বর) হেফাজতের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হাটহাজারী আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনে হেফাজতের মজলিসে আমেলা (কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী) কমিটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতের সাবেক আমির ও হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক প্রধান পরিচালক শাহ আহমদ শফি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সম্মেলনের মাধ্যমে হেফাজতের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনটির নীতিনির্ধারকরা।

তবে এ সম্মেলনে সম্পৃক্ত নেই আহমদ শফির সমর্থক হেফাজতের একাংশের নেতাকর্মীরা। আহমদ শফির মৃত্যুর পর হেফাজতের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয় সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী। আহমদ শফির সাথে বাবুনগরীর বিরোধ থাকায় হেফাজতে দুই নেতার দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। আহমদ শফির মৃত্যুর পর তার সমর্থকরা কোণঠাসা হয়ে হেফাজত থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

এ অবস্থায় জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছেন।

২০১৩ সালে ১৩ দফা দাবিতে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হেফাজতের সম্মেলনকে ঘিরে কৌতূহল দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। কওমি আক্বীদাপন্থী সংগঠনটির আমির ও মহাসচিব কে হচ্ছেন তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন হেফাজতের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও।

সম্মেলনে হেফাজতের ১৫ সদস্যের শুরা (পরামর্শ) কমিটি নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমির ও মহাসচিব পদ নিয়ে হেফাজতের নীতিনির্ধারকরা নানা সমীকরণ করছেন।

আমির পদে যদি মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে নির্বাচন করা হয় সেক্ষেত্রে জুনায়েদ বাবুনগরী আবার মহাসচিব হবেন। কিন্তু মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে আমির করা না হলে তাঁর ভাগ্নে জুনায়েদ বাবুনগরী এ পদে আসীন হবেন। মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী উপদেষ্টা পদে স্থান পাবেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী আমির হলে খোঁজা হবে নতুন মহাসচিব। কিন্তু মহাসচিব পদে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে হেফাজতের চট্টগ্রামের ও বাইরের নেতাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামের নেতারা চাচ্ছেন, হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা হেফাজতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সে হিসেবে হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে চট্টগ্রামের নেতাই থাকবে। আর বাইরের নেতারা চাচ্ছেন, মহাসচিব পদে চট্টগ্রামের বাইরের কাউকে স্থান দিতে।

হেফাজতের শীর্ষ এক নেতা জানিয়েছেন, মহাসচিব পদে চট্টগ্রামের পাঁচজন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নেতার নাম তালিকায় রয়েছে।

চট্টগ্রামের পাঁচজন হলেন- হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদ্রাসার পরিচালক নোমান ফয়জী, হেফাজতের বর্তমান কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ফটিকছড়ির নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী, হাটহাজারীর ফতেপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও বাকলিয়া মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক লোকমান হাকিম এবং হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মুফতি জসীম উদ্দিন।

চট্টগ্রামের বাইরে আলোচনায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাজেদুর রহমান। তিনি হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব পদে আছেন।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, হেফাজতের ঘাঁটি যেহেতু চট্টগ্রামে, তাই মহাসচিব পদে হয়তো চট্টগ্রাম থেকেই নেতা বেছে নেওয়া হবে। মহাসচিব পদ চট্টগ্রামের বাইরে চলে গেলে নেতৃত্ব নিয়ে সমন্বয়হীনতা দেখা দিতে পারে।

হেফাজতের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন, মহাসচিব পদে চট্টগ্রামের নেতা স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি সম্মেলনে এ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয় তাহলে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে আমির করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, সম্মেলনে শুরা কমিটি সবকিছু বিবেচনা করে আমির ও মহাসচিব নির্বাচন করবেন। হয়তো দুটি পদে চমক আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি শাহ আহমদ শফিকে আমির ও জুনায়েদ বাবুনগরীকে মহাসচিব করে গঠিত হয়েছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্যদিয়ে হেফাজতের আত্মপ্রকাশ হয়।


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর