সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২ | ২০ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৪ জিলহজ, ১৪৪৩

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

সন্ত্রাসী নিজামকে নিয়ে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ সভা করেছিল পুলিশ!


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:০০ : অপরাহ্ণ

সন্ত্রাসী নিজাম খানকে (ছবিতে হলুদ বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত) পাশে রেখে এলাকাবাসীকে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান করেছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের বংশাল পাড়ায় এই সন্ত্রাসীর বাড়িতে গত ২৮ জানুয়ারি ভোররাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অথচ দুই বছর আগে এই সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ সভা করেছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা!

সন্ত্রাসী নিজাম খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুইটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি এয়ার গান, অস্ত্র তৈরির ডায়াগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের লোহা কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিজাম খানের স্ত্রী মেহেরুন নেসা মুক্তাকে আটক করা হয়েছে। নিজাম খান ২৩ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ জাবেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি পাঠানটুলী ওয়ার্ডে উঠান বৈঠকের (বিট নম্বর ১০৪) আয়োজন করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ওই উঠান বৈঠকটি করেছিলেন ডবলমুরিং থানার তৎকালীন এসআই কায়সার হামিদ। তিনি এখন রাউজান থানার ওসি তদন্ত পদে আছেন।

পাঠানটুলী ওয়ার্ডের স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে সন্ত্রাসী নিজাম খান পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে একজন জনপ্রতিনিধির মতো মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

রাউজান থানার ওসি তদন্ত কায়সার হামিদ রাজনীতি সংবাদের কাছে দাবি করেন, সন্ত্রাসী নিজামকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না।
তার কথায়-‘উঠান বৈঠকে এলাকার নানা-শ্রেণী পেশার লোক উপস্থিত থাকে। সেখানে কার কী পরিচয় তা তো আমার জানার কথা নয়।’

সন্ত্রাসী নিজাম তো সভার মঞ্চে আপনার পাশেই ছিলেন-এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘সে যে সন্ত্রাসী ছিল তা তো আমি জানতাম না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী নিজাম খান ডবলমুরিং থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিরও সদস্য। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি ডবলমুরিং থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির একটি সভায় অংশ নেন।

ওই সভায় সিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান, তৎকালীন ওসি মহিউদ্দিন সেলিম, কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ ও মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠানটুলী বংশাল পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসী নিজাম খান তার অপকর্মকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কাউন্সিলরের সহযোগিতায় ডবলমুরিং থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য হন। এলাকার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। তিনি এলাকার মধ্যে নিজেকে জাহির করতে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে ছবি তুলে তার ফেসবুক পোস্ট দিতেন।

নিজাম খানকে গত তিন দিনে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে পাঠানটুলী এলাকায় স্থানীয় লোকজন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজাম খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোর মজুমদার রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘পলাতক নিজাম খানের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাকে গ্রেফতার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিজাম খানের স্ত্রী মেহেরুন নেসা মুক্তাও অস্ত্র তৈরির কাজে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। তাদের সাথে আর কে জড়িত আছে এবং তারা কত দিন ধরে এসব অস্ত্র তৈরি করে আসছেন সে ব্যাপারে মুখ খুলেনি। মেহেরুন নেসা মুক্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রামের পাঠানটুলীতে আ’লীগ কর্মীর বাড়িতে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর