বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা বিএনপি

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ দেখছে বিএনপি, বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :৬ জানুয়ারি, ২০২১ ৩:১৫ : অপরাহ্ণ

সরকারের অদূরদর্শিতার কারণেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ করে অতিদ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাসের টিকা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পর্যবেক্ষণের জন্য গত শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংক্রান্ত’ একটি কমিটি করা হয়।

ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন,‘করোনা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও এখন পর্যন্ত করোনার ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশ সরকার ন্যূনতম ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বিশ্বের অনেক দেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়ে গেছে বা পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া শুরু করেছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েক প্রকার ভ্যাকসিন যেমন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন, বায়োটেক/ ফাইজারের ভ্যাকসিন, মর্ডানার ভ্যাকসিন, স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিন, সিনোফার্মা বিবিআইবিপি ভ্যাকসিন ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশে ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন ‘বিনাভোটের সরকার ক্ষমতায় থাকায় জনগণের প্রতি তাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই। তাদের অদূরদর্শিতা ও লুটপাটনীতির কারণেই ভ্যাকসিন নিয়ে আজ অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। যে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে; তার থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, মূল্য, সংরক্ষণ এবং বিতরণ ব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য জনগণের সামনে উপস্থাপনের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া জনগণের অধিকার। এই অধিকার থেকে জনগণ যাতে বঞ্চিত না হয়; সে জন্য বিএনপি প্রথম থেকে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছে। জনগণ যাতে এই ভ্যাকসিন সঠিকভাবে পায়; সেটি অবশ্যই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা চিকিৎসায় সরকারের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই বাংলাদেশের সরকার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং করোনা আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করতে, চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মাস্ক কেলেঙ্কারি, পিপিই কেলেঙ্কারি, হাসপাতাল কেলেঙ্কারি, শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিয়ে কেলেঙ্কারি, করোনা শনাক্তকরণ জালিয়াতিসহ অসংখ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতি উপহার দিয়েছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।


আরও খবর