বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

পরিবহণ ধর্মঘটে অচল সিলেট, স্থবির জনজীবন


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ৪:৫২ : অপরাহ্ণ

টানা পরিবহণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে গোটা সিলেট বিভাগ। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘুরছেনা গাড়ির চাকা। নগরীতে প্রবেশ করছেনা দূরপাল্লার গাড়ি, যেতে পারছেনা বাইরেও। নগরীর অভ্যন্তরে চলাচলের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে রিকশা । সাত সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশ পথে মিছিল-সমাবেশ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সিলেটে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে পাথর ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক শ্র্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা বিভাগজুড়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের গতকাল মঙ্গলবার এর প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মস্থলগামীসহ জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পরিবহন না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যস্থলে রওনা দেন। কেউ কেউ ভ্যান রিকশা করে কর্মস্থলে ছুটছেন। এদিকে ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে রিকশা-ভ্যানচালক, পাঠাও-উবারের রাইডার এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোটর সাইকেল চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।

বেলা ২টার সময় দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা আসাদ রহমান বলেন, আমার জরুরি কিছু কাজ আছে নগরীর জিন্দাবাজারে। দুঘণ্টা আগে বের হয়েও কিছুই পাচ্ছি না। হেঁটে গেলেও পৌঁছে যেতে পারতাম এত সময়ে। ক্ষোভ প্রকাশ করে আসাদ বলেন, এ কেমন ধর্মঘট? এ দেশে কিছু হলে বিপদের পড়তে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।

সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, সারা সিলেটেই দেখতে পাচ্ছি শুধু মোটরসাইকেলেই একটু দূরের যাত্রী বহন করছে। কিন্তু টাকা নিচ্ছে অনেক বেশি। উপায় নেই তাই তাদের দাবিকৃত টাকাতেই শিবগঞ্জ থেকে বন্দরবাজার এসেছি।

অন্যদিকে সকাল থেকে সিলেট ছাড়েনি দূরপাল্লার কোনো গাড়ি। ফলে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার কোচগুলো। টার্মিনালে আসা অনেক মানুষকে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

মাঝে মধ্যে কিছু কিছু বাস নগরীতে যাত্রী পরিবহন করায় কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হতে দেখা যায়। তবে কেউ কেউ পায়ে হেটেও গন্তব্যে পৌছতে দেখা গেছে। তবে এম্বুলেন্স, বিদেশ যাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি ঔষধ বহণকারী গাড়ি ধর্মঘটের আওতায় থাকছে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ড্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা মঙ্গলবার ভোর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। সেখানকার বাস, ট্রাক, ট্যাংকলরি, মাইক্রোবাস, লেগুনা ও সিএনজি’সহ সকল প্রকার পরিবহনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল, সমাবেশ করেছেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জিবিকা রক্ষার্থে আমরা মানবতার জন্য শান্তিপর্ণ ভাবে ৭২ ঘন্টার ধর্মঘট পালন করছি। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালিক-শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করবেন।

পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে টানা ধর্মঘটের বিষয়ে সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রুদ্ধদার বৈঠক হয়। এই বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়ায় ধর্মঘটে অনড় পাথর কোয়ারী ও পরিবহণ মালিক-শ্রমীক ঐক্য পরিষদ। ফলে সিলেট মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন মালিক- শ্রমীক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল জানান, আমরা পাথর কোয়ারী গুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে শান্তিপূর্ন সব কর্মসূচী পালন করেছি। কিন্ত সরকার কোন কর্নপাত করেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমাদের ডাকা হয়। সেখানে সবাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আশানুরুপ কোন ফল না হওয়ায় আমরা ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। তাই মঙ্গলবার সকাল ৬টা হতে যে ধর্মঘট শুরু হয়েছে তা শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পণ্য পরিবহন ও গণ পরিবহণ ধর্মঘট চলবে।


আরও খবর