রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৯ | ২৮ সফর, ১৪৪৪

মূলপাতা দেশজুড়ে

সিলেটে চলছে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ৫:৩২ : অপরাহ্ণ

বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিলেট বিভাগে তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘট শুরু হলে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দুরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি কিংবা প্রবেশও করেনি। সিলেটের আন্ত:জেলা সড়কেও কোনো যানবাহন চলছে না। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। অনেকেই পায়ে হেটে, রিকশা কিংবা রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে পৌঁছান।

হঠাৎ গাড়ি বন্ধের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, জনসাধারণকে জিম্মি করে অযৌক্তিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করছে পরিবহন শ্রমিকরা। দ্রুত এমন কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবিও তাদের।

আর ধর্মঘট আহ্বানকারীরা বলছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সিলেটের ট্রাক মালিকরা গভীর সঙ্কটে পড়েছেন। এছাড়া জাফলং ও গোয়াইনঘাট সড়কে বাস-অটোরিকশার যাত্রীও অনেক কমে গেছে। ফলে সকলেই ক্ষুব্ধ। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে সকল পরিবহনের শ্রমিক-মালিকরা সম্পৃক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে তিনদিন সিলেটে সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকবে।

এর আগে সোমবার পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে বিকেলে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে বৈঠক করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। বৈঠকে জেলা প্রশাসক ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও পরিবহন নেতারা তা মানেনি।

এদিকে, সিএনজি অটোরিকশায় গ্রিল সংযোজনে পুলিশের নির্দেশনা প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবিতে সিলেটে সোমবার থেকে ধর্মঘট পালন করছে অটোরিকশা শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে সোমবার সিলেটে বন্ধ ছিলো অটোরিকশা চলাচল। এই ধর্মঘট চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

টানা এই ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের যাত্রীরা। সোমবার অটোরিকশা ধর্মঘটের কারণে নগরের ভেতরে ও নগরের আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভছড়া- এই পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়। এরআগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বেলা)-এর দায়ের করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে সব ধরণের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে উচ্চ আদালত।

সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। এবার তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশ করার পর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৭২ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছেন তারা।


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর