রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

পুলিশ নিরাপত্তা বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স


রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

‘পুলিশ নিরাপত্তা বিল’ চালুর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্যারিস সহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) লক্ষ লক্ষ বিক্ষোভকারী প্যারিসে জড়ো হয়। এই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর ও আতশবাজি ছোঁড়ার পরে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। দিনভর বিক্ষোভ সংঘর্ষে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

শনিবার প্যারিস, বোর্দো, লিলে, মন্টপেলিয়ার এবং ন্যান্টেসসহ ৭০টি শহরে জনগণ নুতন এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু প্যারিসেই ৪৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়ি এবং খবরের কাগজ দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ২০ জন পুলিশ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত শুক্রবার ফ্রান্সে কৃষ্ণাঙ্গ এক সংগীত প্রযোজককে বেধড়ক মারধর এবং বর্ণবাদী আচরণের কারণে আটক করা হয়েছে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে। তাদের এমন বর্বরোচিত আচরণে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশটির সব মহল।

সম্প্রতি লুপসাইডার নামে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফরাসি পুলিশ কর্মকর্তারা মাইকেল জেকলার নামে ওই সংগীত প্রযোজককে কয়েক মিনিট ধরে মারধর করছেন এবং বারবার বর্ণবাদী গালি দিচ্ছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এ ঘটনা ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ’। এটি ‘সবার জন্য লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের ছবি ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা বিল পাস করে ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। বিলটি আইনে পরিণত হতে এখন সিনেটে পাস হওয়ার অপেক্ষা। আইনটি কার্যকর হলে কোনো দায়িত্বরত পুলিশের ছবি প্রকাশ করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৪৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হবে।

বিক্ষোভকারীরা বলছে, এই নতুন বিলে পুলিশের বর্বরতাকে উসকে দেওয়ার জন্য সংবাদত্রের স্বাধীনতা হ্রাস করা হয়েছে।

তবে ফ্রান্স সরকার বলছে, এই বিলের মাধ্যেমে ফ্রান্সের জনগণকে অনলাইন অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

তবে চলমান বিক্ষোভের মুখে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ ক্যাসটেক্স গত শুক্রবার ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে কমিশন গঠনের আশ্বাস দেন।


আরও খবর