বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা ইসলামী দল

হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন

শূরা সদস্যদের ‘চাপে’ মহাসচিব হন কাসেমী


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৫ নভেম্বর, ২০২০ ৫:১৬ : অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব থেকে আমির নির্বাচিত হয়েছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী।

রোববার (১৫ নভেম্বর) হেফাজতের প্রতিনিধি সম্মেলনে তাদের নির্বাচন করা হয়।

হাটহাজারী আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে হেফাজতের ৫০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাহফুজুল হক হেফাজতের নতুন ১২০ জন নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলন শুরুর আগে হেফাজতের ১৫ সদস্যের শুরা (পরামর্শ) কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আমির ও মহাসচিবসহ ১২০ জন নেতৃবৃন্দের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

শূরা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে জানান, আমির পদে শূরা সদস্যদের সবাই জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করেন। মহাসচিব পদে ১৪ জন শূরা সদস্য নূর হোসাইন কাসেমীর নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু নূর হোসাইন তাদের প্রস্তাবে মহাসচিব হতে প্রথমে রাজি হননি। পরে শূরা সদস্যরা তাঁকে চাপাচাপি করলে তিনি সায় দেন।

রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মহাপরিচালক নূর হোসাইন কাসেমী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদে আছেন। গত ৩ অক্টোবর তিনি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সিনিয়র সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তিনি হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আমির পদেও আছেন।

জানা যায়, শূরা সদস্যদের বৈঠকে অনেকে নূর হোসাইন কাসেমীকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

সম্মেলনের আগে নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতের মহাসচিব হওয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, হেফাজতের গঠনতন্ত্রে মহাসচিব পদে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

কিন্তু হেফাজতের গঠনতন্ত্রে কোনো ধারায় এ কথা উল্লেখ নেই বলে রাজনীতি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

রাজনীতি সংবাদকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে হেফাজতের গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্রে মহাসচিব পদে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না-এমন কোনো ধারা নেই। অনেকে বিষয়টি না জেনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।’

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, নূর হোসাইন কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদ ছেড়ে দেওয়া না দেওয়া সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে শূরা কমিটির সদস্যরা তাকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদ ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছেন।

নূর হোসাইন কাসেমীর ঘনিষ্ট একটি সূত্র রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন, নূর হোসাইন কাসেমী হেফাজতের মহাসচিব হতে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না। আগ্রহ থাকলে তিনি আগ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব থেকে পদত্যাগ করতেন। তিনি শনিবার বিকেলে হেফাজতের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছিলেন।

সম্মেলনে ৩২ জন নায়েবে আমির, ৪ জন যুগ্ম মহাসচিব ও ১৮ জন সহকারী মহাসচিবের নাম ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনে হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হয়েছে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে।তিনি হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন।


আরও খবর